বৃক্ষরূপের মানব ভঙ্গিমা-আসাদ জামানের স্কেচ
বৃক্ষরূপের মানব ভঙ্গিমা
কোন শিল্পই হয়তো উদ্দেশ্য- প্রণোদিত নয়। শিল্পের আত্মার ভেতরে ঢোকার পর একটা উদ্দেশ্য হয়তো স্বপ্রণোদিতভাবে জেগে ওঠে। স্বতঃস্ফুর্তভাবেই তার চলার পথ গতিমান হয়। যেমন ঝর্ণা জানেনা সে কোথায় নদী করে চলেছে;তার বয়ে যাওয়াই স্থির নিয়তি। শিল্পিও জানেননা তার পরিসীমা। তবু তিনি জানেন তার বলবার ভাষাটুকুর প্রক্রিয়া। কোন মাধ্যমে তিনি তিনি কথা বলতে চান। অনন্যতায় পৌঁছাতে চান। সেখানেই হয়তো শিল্পির কিছুটা দায় নিজেকে মুখপাত্র করার। কিছুটা ব্যাখ্যা করার। এই দায় কোন বাধ্যবাধকতা নয়। এই দায় হলো নিজের কাজকে আভরন দেয়া। আত্মস্বীকৃতির ব্যালট তৈরি করা। কিছুটা খোলাসা করা। এ কাজে শিল্পিকে তার অনুপ্রেরণার উৎসকে খুঁজতে হয়। উদ্দীপকের ব্যাখ্যা তাকে দিতে হয়।
ফলশ্রুতিতে আমি আমার উদ্দিপক হিসেবে পেয়ে যাই বৃক্ষকে; মানবীয় কিছু বৈশিষ্ট্যের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে যা সমূহ উজ্জ্বল। শরীরী ভাষ্য হিসেবে যা খুব বেশি স্পষ্ট হয়ে হয়ে ওঠে আর যেন অনুচ্চারে তা কথোপকোথন করতে চায়। সম্পর্ক তৈরি করতে চায়। এই চাওয়াটাকেই বলা যায় মানুষের সাথে গাছেদের Anthropomorphic Relation বা নরাত্মরোপীয় সম্পর্ক । যেমন গাছ তার শরীর দিয়ে অন্য গাছকে আঁকড়ে ধরতে চায় ঠিক যেন তা মানুষের মতই; কখনো কখনো দেখা যাচ্ছে গাছের পেশি,বাহু মানুষের যৌনাঙ্গ সাদৃশ। কোন কোন বৃক্ষের শরীরেই ভঙ্গি হয়ে আছে নর কিংবা নারীর যৌনাঙ্গের। এইসব বস্তুগত সাদৃশ্য সকল নয়,এগুলো পেরিয়ে আধ্যাত্মিক বা মিথলজিক্যাল, রিলিজিয়াস ব্যাপারগুলোতেও বৃক্ষের আখ্যান কম নয়। ইজিপ্টশিয়ান মিথলজিতে সাইকামোর গাছের কথা আছে- যেখান থেকে কোন দেবী – ক্লান্ত পথিককে নিজ হাতে বর দিচ্ছেন,খাদ্য পানীয় দিচ্ছে্ন। এছাড়া কখনো কখনো এমন অনেক বৃক্ষ যাদেরকে ইজিপ্সশিয়ান দেবীদের গাছের কন্যা হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছে।
কোরআনের সুরা আন নাজামের একটি আয়াতের কথাই বলা যাক- যাতে জ্ঞানমার্গের তুলনা করে লোটো বৃক্ষের কথা বলা হয়েছে। যে বৃক্ষটি বাস্তবে যদিও অস্তিত্বশীল কোন বৃক্ষ নয়, ইসলামী মরমী জ্ঞান সম্পর্কিত একটি রূপকাশ্রয়। একদা জিবরাইলসহ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বুদ্ধিমত্তার চূড়ান্ত সীমা পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। সেখানে তিনি দেখতে পান এই বৃক্ষটি। পৃথিবী এবং স্বর্গের বৃক্ষের মতো নয় তা। মানবীয় ভাষায় একটি বর্ননাতীত স্টেট বা অবস্থা। এই লোটে বৃক্ষ সমস্ত স্বর্গ আকাশ ও বিশ্বচরাচরে বিস্তৃত; অসীম থেকে যার জন্ম অনন্তসংখ্যক যার শাখা। লোটে গাছের আলোকচ্ছটা বিস্তৃত হয়ে আছে সমস্ত সৃষ্টিতে, তার ফল আনন্দরূপে বিরাজ করছে সবার মধ্যে এবং তার ফুলের সুগন্ধই বলা হচ্ছে সৃষ্টির সৌন্দর্য।
তো এই বৃক্ষের মানবারোপের বস্তুগত ও ভাবগত ব্যাপারটিকেই একটা সিরিজ কাজ হিসেবে নিয়ে আসতে চেয়েছি বিচিত্র রং ব্যাবহারে নয়, শুধুমাত্র বলপেন ড্রইং এর মাধ্যমে। যেখানে আমি কল্পনা করেছি বৃত্তের সমষ্টিযুক্ত একটি রেখার; তেমনি বৃত্তের সমষ্টিযুক্ত একটি ফিগারের —তার শেড, লাইট, কার্ভস, আর্মস্, লিম্বস ইত্যাদি।
এখানে বৃক্ষ সত্তাটিকে মানুষের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলার ব্যাপারটি নয়— বরং বৃক্ষ সত্তাটির সাথে সামঞ্জস্য উত্থাপন। এই উত্থাপনক্রিয়াটি বা উত্থাপনের ঢং টি আসলে ব্যতিক্রম কিছু দেখাতে সাহায্য করা।
অত বড় শিল্পিত অভিজ্ঞান নিয়ে ভাবনাগত উৎসারণ নয় বরং বিষয়বস্তুর সাথে ভাবস্থাপনের অন্বেষাকে উপস্থাপন করা। যাতে বলপেনের বৃত্তাকার স্ট্রোকগুলি বিষয়বস্তুকে আলাদা ইম্প্রেশান দিতে সাহায্য করে।

কবি। ফটোক্লিক : কেকা
শাইলক কথা অমৃত সমান! – হাসান জাফরুল
রয়া ও নন্দিনী – নাদিয়া ইসলাম
বমি বিকার অথবা অকাল স্খলন – অমল আকাশ
ফাঁকি – আল-বিরুনী প্রমিথ







