জোসেফ এজবারজার-এর গল্প – ওয়াইনপ্রেস
চার্লস জোসেলিন ডি গ্রুজ যখনই তার প্যারিসের বাসায় বিদেশী বন্ধুদের নিমন্ত্রণ করতেন তখনই বলতেন, “একটি ডিসেন্ট রেড ওয়াইনের মজা নিতে আপনাকে যে ফ্রেঞ্চ হতে হবে, এমন কোন কথা নেই।
তারপর হাসতে হাসতে যোগ করতেন, তবে একটা বিশেষ মদের ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই ফ্রেঞ্চ হতে হবে।
ফ্রান্সের কুটনৈতিক মিশনের চাকরি করতেন ডি গ্রুজ। একদিন অবসর গ্রহণ করলেন। অবসর গ্রহণের পর স্ত্রীর সাথে বসবাস করতে শুরু করলেন কুয়েই ভলতেয়ারের একটি সুন্দর টাউনহাউজে।
পছন্দ হবার মত মানুষ একজন তিনি । সরলসোজা প্রকৃতির। অতিথি আপ্যায়ন ও গল্পকথক হিসেবে তার ব্যাপক সুনাম ছিল।
যেসব বৈকালিক অতিথি তার কাছে আসতেন, দেখা যেতো, তারা সবাই ইউরোপিয়ান। সবাই তারা একটা ব্যাপারে একমত হতেন- ইউরোপের সমস্যা একটাই, অভিবাসন।
এসব কথা শুনে চার্লস ডি গ্রুজ অবশ্য কোন কথা বলতেন না। তার যে এ জাতীয় ধারণার ওপর ঘৃণা রয়েছে সেটা তিনি গোপন রাখতেন। তাছাড়া, এসব অতিথিদের তিনি যে খুব পরোয়া করতেন, তাও না।
সেদিন বাছুরের মাংসের সাথে দু বোতল বর্ডেউকস এর প্রথম বোতল থেকে অতিথিদের রেড ওয়াইন সার্ভ করা হচ্ছিলো। অতিথিদের একজন ডি গ্রুজের দিকে তাকালেন । “কাম অন চালর্স এটা হলো সাধারণ পাটিগণিত। জাতিগত বিষয় আর বর্ণ নিয়ে আমাদের কারোরই কিছু করার নেই। কিছু যে করার নেই সে সম্পর্কে তোমারতো রয়েছে ভুরি ভুরি অভিজ্ঞতা। ঠিক না বলো?
“হ্যা জেনারেল ঠিক। এসব সম্পর্কে ভুরি ভুরি অভিজ্ঞতা আছে আমার” শুধু এটুকু বলে ডি গ্রুজ তার গ্লাশ তুলে নিলেন ও তার থ্যাবড়ানো মদো নাকে ঘ্রাণ নিলেন মদের। অনেক লম্বা করে ও গভীরভাবে। মুহুর্তের মধ্যেই দেখা গেল তার চোখ জলপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি বললেন, “সত্যিকারের বর্ডেউকস ওয়াইনের মধ্যে সেরা”
অতিথিরা তাদের চারটি গ্লাশকে আলোয় উচিয়ে ধরলেন। তারপর গ্লাশের ভেতরকার রক্তবর্ণ উপাদান নেড়েচেড়ে দেখলেন । তারা সবাই একমত হলেন এই মর্মে যে এযাবৎ তারা যা পান করেছেন তাদের মধ্যে সত্যিকার অর্থে এটাই সর্বোৎকৃষ্ট মদ, রেড বর্ডেউকস ।
শীন নদীর বুকে দেখা যাচ্ছিলো সাদা সাদা আলোর সারি। অলৌকিক সেই দৃশ্য। একটার পর একটা মুক্ত প্রমোদতরি পন্ট ডিউ ক্যারাউজেল ব্রীজের খিলান দিয়ে চলে যাচ্ছিলো ।
একটু পর পার্টিতে উপস্থিত লোকজন আগের চেয়ে অধিকতর রক্তবর্ণ অন্য একটি মদের বোতলের দিকে ধাবিত হলেন। ডি গ্রুজ সেই বতল থেকে মদ ঢালতে ঢালতে এই সময় জিজ্ঞাসা করলেন, “কল্পনা করতে পারেন? মদ সার্ভ করেন এমন মানুষ আছেন যারা কখনো জানেনইনা সেই মদ সম্পর্কে কোন কিছুই।”
অতিথিদের মধ্যে থাকা জার্মান রাজনীতিবিদ বললেন, “রিয়েলি?”
“ হ্যা। …..ব্যক্তিগতভাবে আমি অবশ্য বোতলের ছিপি খোলার আগে জানতে চাই এর মধ্যে কি আছে তা”
“কিন্তু কিভাবে? কিভাবে সেটা জানবে তুমি?”
“আমি আঙুর খেতগুলি চষে বেড়াই। বর্ডেউকস এর কথাটাই ধরুন, এটি যেখানে প্রস্তুত করা হয় আমি সেই জায়গাটাতে গেছি। উৎপাদকের সাথে ব্যক্তিগতভাবে আলাপ পরিচয় হয়েছে আমার। আমরা যা পান করছি সে সম্পর্কে জানার এটাই একমাত্র পন্থা”।
“এতো দেখা যায় ঠিকুজি সংগ্রহের মত, চালর্স” অন্য রাজনীতিবিদ বললেন।
“এই লোকটার কথাই ধরুণ”। ডি গ্রুজ এমনভাবে কথা বলা শুরু করলেন যেন ডাচ ভদ্রলোক একটু আগে কিছুই বলেননি। “আমি তো আপনাদের সবসময় ওয়াইনের পেছনের ইতিহাস বলে এসেছি। কিন্তু আজ আমি এমন একটি গল্প বলবো যে ধরণের গল্প আমিও আগে কখনো শুনিনি আপনারাও কখনো শোনেননি।
“মদের স্বাদ নিচ্ছিলাম তখন। তো স্বাদ নিতে নিতে কারখানায় অকস্মাৎ আমরা একটি পিপের কাছে এলাম। তখন কারখানার মালিক ভদ্রলোকের ভ্রু কুচকে গেল। আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন রেড ব্রডেউকস পৃথিবীর সেরা মদ এব্যাপারে তার সাথে আমি একমত কিনা। আমি বললাম একমত। তখন কারখানার মালিক চুড়ান্ত বিস্ময়জাগানিয়া সেই বক্তব্য উপস্থাপন করলেন আমার সামনে”।
“এই পিপের মদই বিশ্বের সেরা মদ। কিন্তু এটি এই দেশ থেকে অনেক দুরে তার জীবন শুরু করেছিল- যেখানে এর জন্ম” ডি গ্রুজ বিরতি দিয়ে দেখলেন তার সকল অতিথিকে সার্ভ করা হয়েছে কিনা।
ডাচম্যান বললেন, “তারপর?”
ডি গ্রুজ এবং স্ত্রী দৃষ্টি বিনিময় করলেন। স্ত্রী তাকে বললেন, “গল্পটা তাদেরকে বলে দাও হানি”।
ডি গ্রুজ সামনের দিকে কিছুটা ঝুকে এলেন, এক চুমুক ওয়াইন নিলেন, তারপর ন্যাপকিনে নিজের ঠোট মুছলেন। নিম্মোক্ত গল্পটি ভদ্রলোক তাদের বলেছিলেন।
২১ বছর বয়স তার। নাম পিয়েরে। মাদাগাস্কারে গিয়েছিলেন চাচার কাছে । তার বাবাই সেখানে তাকে কিছুদিনের জন্য পাঠিয়েছিলেন। গিয়েই দু’সপ্তাহের মধ্যে পিয়েরে প্রেমে পড়লেন একটি মেয়ের। নাম ফানাইরি। তাকে মালাগাছির কামনার কেন্দ্রবিন্দু বলা যায়। দোষ দেওয়া যায় না তাকে। ১৭ বছর বয়সে সে হয়ে উঠেছে মোহময়ী এক নারী। মালাগাছির রোদের আলোয় তার ত্বক দেখায় স্বর্ণাভ। তার চুল কালো ও কোমর সমান। চোখদুটি বড় ও গভীর। দুজনের জন্যই এটি ছিল প্রথম দর্শনে প্রকৃত অর্থের প্রেম।
পরিচয়ের পাঁচমাসের মধ্যেই পিয়েরে ও ফানাইরি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন। ফানাইরির কোন পরিবার ছিল না। বিয়েতে মত না থাকলেও পিয়েরের বাবামা ফ্রান্স থেকে এলেন বিয়ে উপলক্ষে। মাদাগাস্কারের দ্বীপে তিন বছর তাদের বেশ সুখেই কাটালো। তারপর অকস্মাৎ একদিন ফ্রান্স থেকে একটি টেলিগ্রাম এল। পিয়েরের বাবা, মা ও ভাই একটি কার-এক্সিডেন্টে মারা গেছেন। অন্তষ্টি ক্রিয়ায় যোগ দিতে ও আঙুরবাগান দেখাশুনা করতে ফিরতি ফ্লাইটেই পিয়েরে ফ্রান্সে রওনা হলেন। দু’সপ্তাহের মধ্যে ফানাইরিও রওনা হলেন। পিয়েরে তখন শোকাচ্ছন্ন। কিন্তু ফানাইরিকে সাথে নিয়ে শোক সামলে পিয়েরে আঙুর বাগান ব্যবস্থাপনার কাজে লেগে গেলেন। তবে, মদের কারখানা ও ব্যবসা রক্ষা করতে পারলেও পরিবার ও অলস দিনের সুখি উষ্ণ দিনগুলি সারাজীবনের জন্য উধাও হয়ে গেল। সুখিই ছিলেন তিনি বিবাহিত জীবনে, ছিলেন স্বচ্ছলও। হয়তো তিনি মনে করেছিলেন বর্ডেউক্সে জীবন খারাপ হবে না। কিন্তু তিনি ভুল ভেবেছিলেন। সহসা পরিস্কার হয়ে গেল যে ফানাইরি খুব হিংসা করছে সকলকে। মাদাগাস্কারে সব মেয়েই দেখতে ছিল কালো, অতএব তার সমকক্ষ কেউ ছিল না সেখানে, কিন্তু এখানে সকলকেই ফর্সা। ফলে সে প্রত্যেককে হিংসা করতে শুরু করলো। চাকরবাকর, সেক্রেটারি, এমন কি আঙুর তোলার কাজে নিয়োজিত মেয়েগুলিকেও পর্যন্ত হিংসা করতো ফানাইরি। কি কারনে কে জানে সে মনে করতে শুরু করলো পিয়েরে সকলের সাথে শারিরিকভাবে মেলামেশা করে।
একটা পর্যায়ে ফানাইরি এমন আচরণ শুরু করলো পিয়েরে যার সাথে কখনোই পরিচিত নয়। তাছাড়া, বেডরুমের প্রাইভেসি নিয়েও সে অহেতুক অভিযোগ করতো। আর পিয়েরে যখন অস্বীকার করতো, তখন সে ফুসে উঠতো রাগে। কখনো কখনো রান্নাঘরের জিনিসপত্র ছুড়ে মারতো। আঙুর বাগানেও প্রকাশ্যে তার সাথে বচসায় লিপ্ত হতো। ছিলো সে মাদাগাস্কারে এক অ্যাঞ্জেল, আর এখানে এসে সে হয়ে গেল কলহপ্রবণ এক নারী। কোন কিছুতেই আর কাজ হয় না। কখনো কখনো এক সপ্তাহ জুড়ে সে পিয়েরের সাথে কথাই বলতো না। তারপর যখন কথা বলতো তখন আগের চাইতে আরো জোরালোভাবে আক্রমণাত্নক হয়ে উঠতো। কথায় কথায় ফানাইরি তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা বলতো।
তৃতীয় বারের মত আঙুরের ফলন তোলার পর সবাই নিশ্চিত হয়ে গেল যে, ফানাইরি আর পিয়েরে পরস্পর পরস্পরকে যারপরনাই ঘৃণা করে। ফলে যে কোন মূহুর্তে তাদের সম্পর্ক শেষ হয়ে যেতে পারে।
ঠিক এরকম সময় এল সেই শুক্রবার বিকেল।
পিয়েরে ছিল মদের কারখানায়। সে কাজ করছিলো একটি নতুন ইলেক্ট্রিক ওয়াইনপ্রেস নিয়ে। একাকি। আঙুর তোলার কাজে নিয়োজিত যারা তাদেরও কেউ ছিল না তার কাছে। হঠাৎ করে দরজা খুলে গেল আর ফানাইরি প্রবেশ করলো রুমে। সরাসরি সে হেটে পিয়েরের কাছে চলে এল এবং পিছন থেকে গলা জড়িয়ে ধরলো। তারপর নিজেকে ওর সাথে কঠিনভাবে চেপে ধরলো। তখনই পিয়েরে টের পেল ভালমত মদ খেয়েছে ফানাইরি। কারণ আঙুর পেষার কাজ চলতে থাকা ও সেখান থেকে ধোয়া উঠতে থাকার পরও তার মুখ থেকে আসা মদের গন্ধ টের পাওয়া যাচ্ছিলো।
“ডার্লিং” ফানাইরি দীর্ঘশ্বাস ফেলল, “কি করবো আমরা?”
এটা ঠিক পিয়েরে তাকে ভিষণভাবে কামনা করতো। কিন্তু অতিতের সমস্ত কলহ-বিবাদ আর অপমানের কথা ঐমুহুর্তে পিয়েরের মনে পড়ে গেল। ফলে সে তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো।
“কিন্তু ডার্লিং আমার তো বাচ্চা হবে”
“উদ্ভট কথা বলো না। শুয়ে পড় গিয়ে। এখন মাতাল তুমি। এভাবে কথা বলনা। এভাবে কথা বললে তোমাকে খুব খারাপ দেখায়।
ফানাইরির মুখ কালো হয়ে গেল। নতুন অভিযোগ উত্থাপন করে ঝাপিয়ে পড়লো সে পিয়েরের ওপর। বলতে থাকলো, পিয়েরে কখনো তার কেয়ার নেয়নি, সে শুধু সর্বদা গুরুত্ব দিয়েছে যৌনজীবনকে, সেক্স বলতেই সে ছিল পাগল । পাগল ছিল ফর্সা রমণিদের প্রতি। কিন্তু ফ্রান্সের ফর্সা রমণীরা খুব খারাপ। তাদের সাথে তার ভালই চলে যায়, এই সব হাবিজাবি।
কথা বলতে বলতে হঠাৎ করে সে দেয়াল থেকে একটি ছুরি টেনে বের করে আনলো। তারপর হাসতে থাকলো পিয়েরের দিকে তাকিয়ে। একদিকে তার চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ছে, অন্যদিকে, গলা থেকে ছুরি খানা সরাতে ঐমুহুর্তে পিয়েরের সমস্ত শক্তি নিয়োগ করতে হলো। অবশেষে সে তাকে ধাক্কা দিলো। ধাক্কার কারণে ফানাইরি হুমড়ি খেয়ে গিয়ে পড়লো ওয়াইন প্রেসের ওপর।
পিয়েরে দাড়িয়ে ছিল পিছে, খুব জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছিলো সে, দেখলো ফানাইরির চুল জড়িয়ে গিয়েছে একটি স্ক্রুর সাথে। আর আস্তে আস্তে তাকে ভেতরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। ফানাইরি চিৎকার করে উঠলো ও নিজেকে মুক্ত করতে চেষ্টা করলো। কিন্তু ততক্ষণে স্ক্রু তাকে কাধের কাছে বিদ্ধ করেছে । সে চিৎকার করে উঠলো আর একবার। আর তারপর মুর্ছা গেল। ব্যথার কারনে না ধোয়ার কারনে তা বোঝা গেল না। পিয়েরে দুরে তাকিয়ে রইল যতক্ষণ পর্যন্ত না একটি অস্ফুট স্বর তাকে জানান দেয় যে সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। একসময় পিয়েরে হাত তুলে কারেন্টের সুইচ অফ করলো।
অতিথিদের মধ্যে কাপুনি দেখা গেল আর ওদিকে ডি গ্রুজ তার গল্পে বিরতি দিলেন।
“ভাল কথা। শুনুন, বিস্তারিত আমি এই খাওয়ার টেবিলে বলতে পারবো না। ডি গ্রুজ বললেন, শুধু এটুকু বলতে পারি পিয়েরে ফানাইরির শরীর টাকে ভালমত পিষে যেতে দিলেন ওয়াইন প্রেসের মধ্যে, তারপর তিনি ওপরে গেলেন, গোসল করলেন, রাতের খাবার খেলেন, এক সময় ঘুমুতে গেলেন। পরের দিন তিনি সকলকে বললেন যে ফানাইরি তাকে ছেড়ে চলে গেছে মাদাগাস্কার। তার এই কথায় কেউই বিস্মিত হলো না।
পুনরায় বিরতি দিলেন ডি গ্রুজ তার গল্পে। অতিথিরা অনড় বসে আছেন। প্রত্যেকের চোখ তার দিকে।
“অবশ্য” তিনি আবার শুরু করলেন, সিক্সটি ফাইভ ছিল খারাপ বছর রেড বর্ডেউক্সের জন্য। কিন্তু পিয়েরে ছিল ব্যতিক্রম। এটাই ছিল অসাধারণ একটি ঘটনা। একটার পর একটা অ্যাওয়ার্ড পেতে লাগলো পিয়েরে কিন্তু কেউ জানলো না কেন।
জেনারেলের স্ত্রী গলা পরিস্কার করলেন। “শুনুন নিশ্চিতভাবে একটা কথা জানতে চাইছি আমি, সত্যিই আপনি চেখে দেখেন নি ওটা?”
“না। আমি চেখে দেখিনি। যদিও পিয়েরে আমাকে আস্বস্ত করেছিল যে তার স্ত্রী ওয়াইনকে দিয়ে গেছে একটি অতুলনীয় সৌরভ”
“আর আপনি একটাও কেনেননি?” জেনারেল জিজ্ঞাসা করলেন।
“কিভাবে না কিনে থাকতে পারি? এমনতো নয় যে প্রতিদিন এজাতীয় জিনিস পাওয়া যায়”
দীর্ঘ নিরবতা নেমে এল টেবিল জুড়ে। ডাচ ভদ্রলোক কদর্যভাবে নিজের আসন পরিবর্তন করলেন, গ্লাশ ঝুলতে লাগলো তার হা করা ঠোট ও গ্লাশের মাঝামাঝি। অন্যান্য অতিথিরা একে অপরের দিকে অপ্রস্তুতভাবে তাকাতে শুরু করলেন। কেউই কিছু বুঝে উঠতে পারছিলেন না।
“দেখুন, একটা কথা, গ্রুজ” জেনারেল বললেন, “আপনি কি বলতে চাইছেন যে আমরা সেই অভিশপ্ত মহিলাকে পান করছি এখন?”
ডি গ্রুজ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন ইংলিশ ভদ্রলোকের দিকে।
“ঈশ্বর ক্ষমা করুণ আমাকে” আস্তে আস্তে তিনি বললেন, “আপনারা প্রত্যেকেইতো জানেন যে, সর্বোত্তম মদের পরিবেশনাটা আগেই হয়ে থাকে"
গল্পকার : জোসেফ এজবারজার (জোসেফ এজবারজার একজন ইংরেজী শিক্ষক। নিজস্ব ব্লগ আছে তার। বর্তমান গল্পটি ইংলিশক্লাব নেওয়া হয়েছে)

অনুবাদক, কবি ও গল্পকার।
শাইলক কথা অমৃত সমান! – হাসান জাফরুল
রয়া ও নন্দিনী – নাদিয়া ইসলাম
বমি বিকার অথবা অকাল স্খলন – অমল আকাশ
ফাঁকি – আল-বিরুনী প্রমিথ
