ওঙ্কার

র‌্যাচেল হ্যাডাস-এর কবিতা, অনুবাদ: আবুল কাইয়ুম

Post Views9 Total Count
0Shares
আবুল কাইয়ুম

নৈ:শব্দ

 

কি সে –যে সারাক্ষণ পুনর্বিন্যস্ত করে চলে দৃশ্যপট?
ক্ষুৎপিপাসার তো অভাব নেই।
যখনকার পৃথিবী ভালোবাসি –সে তো তেমন থাকে না,
নিজেকে পাল্টে চলে শুধু।

 

নীরব কব্জাগুলোয় ঝোলানো প্রকান্ড একটি দরোজা যেমন
খুলে যায়, মেলে ধরে কিছু দৃশ্য
তেমনি আমাদের পরবর্তী আলোর চমক অকস্মাৎ পুনর্বিন্যস্ত হয়।

 

প্রতিটি টাটকা নজর প্রথমে দেখায় এবং তারপরই বিচ্ছেদ নিয়ে আসে।
এটা ওটা দুটোই বাস্তব।
যেখানে আছো সেখানেই থাকো তুমি পৃথিবী। কিন্তু সে পাল্টায়।

প্রতিটি অজ্ঞাত জিনিস প্রথমে প্রবেশ করে,
বিপন্নতা ও যোগসূত্রের ঝিকিমিকি নিয়ে
সন্দেহ জাগায়, তারপর পুনর্বিন্যস্ত হয়।

ইতর সুবিদিত। আর চমক অজ্ঞাত।
তবু সময়ের সাথে পাল্লা ধরে আমরা তাদেরকে পান করি
ভালোবেসে পৃথিবীকে যতক্ষণ না তার পরিবর্তন ঘটে,
ভালোবেসে মহাজাগতিক সূত্রাবলী কিংবা প্রণয়ের যেৌক্তিকতা।
কিন্তু জীবন আমাদের উপর সেঁটে থাকে এবং তারপর চলে যায়।
নির্মম কোনো কিছু পুনর্বিন্যস্ত করে আমাদের জানা দৃশ্যপট,
এবং বিশ্ব পরিবর্তিত হয়।

 

 

কালো বাক্স

 

অন্ধকারে বাক্সবন্দী তুমি, অবরুদ্ধ কালো অন্ধকার কোণে।
সেই কবর থেকে যেন বেরুবার আপ্রাণ চেষ্টায়
ছিন্নভিন্ন করে যাচ্ছো আবরণগুলো, পদবিক্ষেপে
এগুতে চাও কিছু স্বচ্ছ সময়ের মাঝে।

 

সেই ফুল্লচোখো দুষ্টুমিটা বুঝি কুমন্ত্রণা দিচ্ছে পালানোর।
প্রানবন্ত, অস্থির ছিলে। সর্বদা ছিলে বাইরেমুখো তুমি।
এখন ঘুমের মধ্যে শুনতে পাচ্ছো হয়তো কোনো সন্তের বাণী:
‘আবার ফিরে যাও শিল্পীর বসতে’।

 

মনে পড়ে সেই উষ্ণ সুদূর জুলাই, ছিলো না আর এখনকার মতো।
সেই জায়গা, ঋতু, পক্কতা : প্রতিটি জিনিস সার বেঁধে এসে
এক সাথে গেঁথে ফেলেছিলো দু’জনার বাঁকা পথ দুটো।
হয়তোবা তা ছিলো ডাহা নিয়তি-নির্দিষ্ট কিছু, দিব্য-সঙ্গীতের

 

অন্ধ ঝাঁকুনি। অথচ এসব ভাবার কোনো প্রয়োজনই ছিলো না।
একটি পথ ডাকছিলো ইশারায়, আমরাও চলেছিলাম একই সাথে,
একত্র পদক্ষেপে, সাফ করেছিলাম আমাদের অজ্ঞ নিরাপত্তাগুলো;
হুটোপুটি করে মিলিয়েছিলাম তোমার পায়ের সাথে আমার পা।

 

তোমাকে নিয়ে আমিও ছিলাম যেন শিশু, ছিলাম হয়তো বা উত্তম জননী;
উভয়ে উভয়ের শিক্ষক, তোমাকে যতোটা শিখিয়েছিলাম তার চেয়েও
অনেক বেশি শিখিয়েছিলে তুমি। একে অন্যকে অনেক, অনেক কিছু
দিয়েছিলাম প্রাণ ঢেলে। হায়, এখন আমার হাতে বিস্তর সুযোগ যদিও

 

পাল্লা সমান করার, তুমি আর নেই যে এখানে। অথচ এখনো
স্মরণে বাজো তুমি অহর্নিশ, স্মৃতিতে ভাসে সেই রিপোর্ট তৈরি,
অর্থ বলে দেওয়া এবং অনুবাদ; আর তোমার মতো করে আমার
একই স্বভাব লালন করে চলা, সেই গালগল্প, হাসাহাসি এবং ধ্যান-ধারণা।

 

মনে পড়ে একদা একটি ভারি ঝুরি আমার মাথায় টাল খাচ্ছিলো,
আমাকে ধীরগতিতে হাঁটতে হচ্ছিলো যাতে উল্টে না পড়ি,
দেউড়ি পেরিয়ে যাচ্ছিলাম বিশৃঙ্ক্ষল পদক্ষেপে। সেই ঝুরিতে ছিলে তুমি
যাকে বহন করছিলাম, বেঁকে নয়, লম্বা হয়ে স্থির থেকে।

 

যতদিন পর্যন্ত আমি তোমায় নিয়ে জীবন্ত ছিলাম –ততদিন
হে আমার ছেলে- তুমি গন্তব্যের খবর না দিয়ে কোথাও বেরিয়ে যাওনি।
আজ আমি স্বপ্নের বাক্স থেকে অবতরণ করেছি
এবং তোমার কন্ঠস্বর শুনতে পেয়েছি।

 

[লেখাটি সাহিত্য পত্রিকা-ওঙ্কার ২০১৫ ফাল্গুন সংখ্যায় প্রকাশিত]


hadas_r

মার্কিন কবি র‌্যাচেল হ্যাডাস

র‌্যাচেল হ্যাডাস : একজন প্রথিতযশা মার্কিন কবি। ১৯৪৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে তাঁর জন্ম। তিনি হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাশিক সাহিত্য, জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে কাব্যতত্ত্ব ও প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্য অধ্যয়ন করেন। আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি সাহিত্য পড়িয়েছেন। বর্তমানে নিউ জার্সির নেওয়ার্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর। তাঁর কাব্যগুলো হচ্ছে Living in Time (১৯৯০) Mirrors of Astonishment (১৯৯২), The Double Legacy (১৯৯৫), The Empty Bed (১৯৯৫), Halfway Down the Hall: New & Selected Poems (১৯৯৮) Indelible (২০০১), Laws (২০০৪), The Ache of Appetite (২০১০) এবং The Golden Road (২০১২)। হ্যাডাস কবিতার জন্য ইনগ্রাম মেরিল ফাউন্ডেশন অ্যাওয়ার্ড, হার্ডিসন পোয়েট্রি প্রাইজ, আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ আর্টস এন্ড লেটার প্রাইজ ও গুগেনহেইম ফেলোশিপ লাভ করেন। তিনি নিও-ফর্মালিস্ট কাব্য আন্দোলনের সাথে জড়িত থেকে আমেরিকার উত্তরাধুনিক কবিতায় যথেষ্ট অবদান রেখেছেন।

people
আবুল কাইয়ুম

বিভাগ

কবিতা

error: Content is protected !!
We use cookies to personalise content and ads, to provide social media features and to analyse our traffic. We also share information about your use of our site with our social media, advertising and analytics partners. View more
Cookies settings
Accept
Privacy & Cookie policy
Privacy & Cookies policy
Cookie name Active

🍪 We Use Cookies

Our website uses cookies to improve your experience. They help us remember your preferences and analyze traffic. Some cookies are essential, while others help us optimize content. By continuing to browse, you agree to our use of cookies. You can manage cookie settings in your browser.

Save settings
Cookies settings
Scroll to Top